‘২ কোটি কেন? ক্ষমতা থাকলে বাংলার দু’জনের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক!’

‘২ কোটি কেন? ক্ষমতা থাকলে বাংলার দু’জনের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক!’

‘যতদিন বেঁচে আছি, বাংলায় এনআরসি করতে দেব না।’ ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরোধিতা করে এভাবেই সরকারপক্ষীয় বিজেপিকে সতর্ক করে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিছুদিন আগেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তিনি এনআরসি মানবেন না। এ বার সেই ‘সংকল্পকে’ আন্দোলনে পরিণত করতে রাজপথে নামছেন তৃণমূলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তায় প্রতিবাদী মিছিলের পর জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় শাসকদলের বিরুদ্ধে এই বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। এনআরসি-র বিরোধিতা করে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মিটিং-মিছিল শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই ইস্যুতে প্রথমবার পথে নেমে বিরোধিতা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক কারণেই এর তাৎপর্য অনেক বেশি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

অসমের পর বাংলায় এনআরসি চালু করা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে এনআরসি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দ্বিতীয়বারের জন্য মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এনআরসি চালুর দাবিতে নিত্য সরব হচ্ছেন রাজ্য বিজেপির ছোট-বড় নেতারা।

তবে এ রাজ্যে কোনওভাবেই এনআরসি চালু করতে দেওয়া যাবে না বলে পালটা হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর গলায়। আজ প্রতিবাদী মিছিলের পর শ্যামবাজারের জনসভা থেকেও ফের একবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘দিল্লিকে বলে দিতে চাই আরেকবার বঙ্গভঙ্গ বা ভারত ভাগ করার চেষ্টা বরদাস্ত করব না। পুলিশ দিয়ে অসমের মুখ বন্ধ করেছ। তবে বাংলার মুখ বন্ধ করতে পারবে না।’

হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাকে সামনে রেখে যে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক উত্থান, এনআরসি তালিকা থেকে তাদের শাসনে থাকা অসমেই ১০ লাখ হিন্দুর নাম বাদ গিয়েছে। এ নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আজ তিনি বিজেপিকে মনে করিয়ে দেন, ‘১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। রয়েছে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধদের নাম। স্বাধীনতার ৭৬ বছরে এসেও নাগরিক পরিচয় দিতে হবে। কেন?’ বাংলায় বিজেপিকে যে জায়গা ছাড়া হবে না তা বুঝিয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা আমাদের ধর্ম শেখাচ্ছে। যেন বাংলায় ঈদ, দুর্গাপুজো, বড়দিন, মহরম, ছট পুজো হয় না।’