চামড়া ২০০ আর জুতা ১২০০০ টাকা !

চামড়া ২০০ আর জুতা ১২০০০ টাকা !

কোরবানির পর পশুর চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না কোরবানিদাতারা। আর কম দামে চামড়া কিনেও বিপাকে পড়েছেন অনেক মৌসুমী ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ যারছেন সবাই। চলছে সমালোচনা ও প্রতিবাদ।

স্যোশাল মিডিয়ার উত্তপ্ত হয়ে আছে চামড়া দড় পতন নিয়ে। ফাহাদ আজম নীল নামে একজন পোস্ট দিয়ে লিখেছিলেন, ‘চামড়া ব্যবসায়ীদের এই মহান অপকর্মকে কিভাবে ভোক্তা অধিকার আইনে আনা যায়? একটা চামড়া ২০০ আর জুতা ১২০০০! এটা কোনভাবেই মানা যায় না।’

তার এই পোস্টে অনেকে কমেন্ট করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি আইডিয়াও শেয়ার করেছেন অনেকে।

রাসেল আহমেদ লিখেছেন, ‘চামড়া মাটিতে পুতে দিন। সস্তায় বিক্রি না করলেই তো হয়।’

যারা ১০,০০০ টাকা উপরে কোরবানি করতে পারেন তারা চামড়া বিক্রি না করেও গরীবের জন্য ৫০-১০০ টাকা বের করতে পারবে। তাই উচিত চামড়া বিক্রি বন্ধ করে মাটিতে পুতে দেয়া। শুধু একটা বছর এমন করি না আমরা, পুরো সিন্ডিকেট নড়ে চড়ে উঠবে। ধন্যবাদ।’

জহির নামে একজন লিখেছেন, ‘আমাদের সবার উচিৎ জুতার দোকানে যেয়ে যত দামি জুতাই হোক না কেন ৫০০ টাকার বেশি না দেয়া।’

আহমেদ ফয়সাল লিখেছেন, ‘একটি সিগারেট এর চেয়ে ছাগলের চামড়ার দাম কম ভাবা যায় !! আর গরুর চামড়া ১৫০-২৫০/- উপর যায়নি ,প্রতিবাদ একটাই চামড়া মাটিতে পুঁতে রেখে দেয়া, আর গরিব, এতিম, মিসকিন এর হক নিজেরাই দিয়ে দেয়া অনেকেই এবার এভাবে দিয়েছে, ৭০-৮০ হাজার দিয়ে গরু কিনতে পারি ১০০০-১৫০০কি দিতে পারবোনা তাদের?? মাটিতে কেটে পুঁতে ফেলাই হোক উত্তম প্রতিবাদ, দেশের চামড়ার নাকি মুল্য নাই ..Italian, chinese লেদার লাগে, ঠিক আছে মামা চাইনিজ ইতালিয়ান যা খুশি নেও তোমাদের সিন্ডিকেট বুঝি না আমরা বুঝি !! ১৫০টাকার চামড়া মূল্য মাগার জুতার মূল্য ৩০০০-৫০০০। জনগণ কি জিনিস বুঝবে সামনের ঈদ থেকে।’

শরীফ আহমেদ লিখেছেন, ‘সাধারণ মানুষ যদি একটা কোরবানিতে চামড়া বিক্রি না করে মাটিতে পুতে রাখে তাহলে সিণ্ডিকেট ভেঙে যাবে। আট দশ বছর আগেও ছোট সাইজের চামড়ার দাম ১৪০০-১৮০০ মাঝারি সাইজের চামড়ার দাম ১৮০০-২২০০ এবং বড় সাইজের চামড়ার দাম ২২০০-২৮০০ টাকা ছিল। এখন এভারেজ চামড়ার দাম দেয়া হয় ৪০০-৬০০ টাকা। এ টাকা গরীবের হক। কিন্তু মেরে খাওয়া শেষ।’

নীলফামারির সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের হাসান ৫০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া সৈয়দপুর আড়তে নিয়ে আসেন। সেখানে ৮০ টাকা দাম বলা হয়। ব্যবসায়ীরা তাকে এও বলে- দিলে দেন, না দিলে বাড়ি নিয়ে যান। বাধ্য হয়ে রাগে-ক্ষোভে চামড়াটি বাড়িতে নিয়ে এসে মাটিতে পুঁতে ফেলেন হাসান।