‘রাঘব বোয়ালদের সাথে না পেরে দুর্বল রিকশা চালকদের কর্মহীন করা হয়েছে’

‘রাঘব বোয়ালদের সাথে না পেরে দুর্বল রিকশা চালকদের কর্মহীন করা হয়েছে’

হুট করে রিকশা বন্ধ করে দিয়ে রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব না। হঠাৎ করে রিকশা বন্ধ করে দেয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে রিকশাচালক পরিবার। কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ। তাই যানজট নিরসনে এটা কোন সুষ্ঠু সমাধান হতে পারে না বলে দাবি করছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও সুশীল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজধানীতে রিকশা শ্রমিক কম নয়, ঢাকায় প্রায় ৫ লাখের অধিক রিকশা চলাচল করে। তাদের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা না করে হঠাৎ তাদের কর্মহীন করে দেয়া রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা বন্ধ করার পূর্বে তাদের জন্য আলাদা একটি লেনের ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত ছিল। তাছাড়া সামগ্রিক ভাবে যদি বলি, রিকশা বন্ধ করে দিয়ে যানজট খুব একটা কমবে বলে মনে হয় না। ব্যক্তি মালিকানা গাড়িই রাস্তায় যানজটের মূল কারণ।

কাউকে কর্মহীন করা কোন অবস্থাতেই কাম্য নয় উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, গত দুদিন যাবত রিকশা বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারনের মাঝে অতিমাত্রায় ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলছে, এতে করে লাখ লাখ রিকশা শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এতে করে সমাজে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কর্মহীন মানুষ নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন (৫৭) সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘গণপরিবহনের সংখ্যা ও সেবার মান না বাড়িয়ে রিকশা চলাচল বন্ধ করায় নারী ও শিশুরা যেমন ভোগান্তিতে পড়বে, তেমনি আমাদের মত যাদের গাড়ি নেই, রিকশা ব্যবহার করি তারা কিভাবে চলাচল করবে? যানজট নিরসনে রিকশা বন্ধ করা একমাত্র সমাধান হতে পারে না। সরকারের এসব সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং খরচ বাড়বে। যেটা একটা সরকারের করা উচিত নয়। তাছাড়া রাজধানীতে যানজটের মূল কারণ হলো প্রাইভেটকার। সরকার সেইসব রাঘব বোয়ালদের সাথে না পেরে দুর্বল, অসহায় রিকশা চালকদের কর্মহীন করে তাদেরকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

এদিকে কর্মহীন হয়ে পড়ে রিকশাচালক আব্দুল খালেক (৫৬) বলেন, পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে রাজধানীর মুগদায় দীর্ঘ ২৪ বছর বসবাস করছি। ছেলে-মেয়রা সকলেই লেখাপড়া করেন। বিভিন্ন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। কী করব কিছু বুঝে উঠতে পাচ্ছি না। কিভাবে ছেলে-মেয়ের পড়া-লেখার খরচ ও সংসার চালাবো বলতে পারেন? কারও কাছে হাত পাতি না, কর্ম করে খাই। তবে কেন আমার পেটে লাথি মারছে মেয়ররা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেট্রোপলিটনের এক কর্মকর্তা বলেন, একটি রিকশারও লাইন্সেন নেই। সব চলছে অবৈধ ভাবে। তিনি আর কিছু বলতে চাননি।

রিকশা বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা যখন কোন সিদ্ধান্ত নিবেন, তা অবশ্যই ভাল খারাপ বিবেচনা করেই নিবেন, হটকারী কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান ব্যাঘাত ঘটিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

জনসাধারনের অসুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐসব রাস্তায় কি পর্যাপ্ত গণপরিবহন আছে? যদি পর্যাপ্ত থাকত, তবে না হয় বিষয়টি ভাবা যেত। রিকশা বন্ধ করে খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। বরং প্রাইভেটকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কারণ বহু পরিবারে সদস্যদের চেয়ে দিগুণ প্রাইভেটকার রয়েছে। সেখানে কত সংখ্যক লোক চলাচল করে? প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ করলে যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে।

রাজধানীর যেসব রুটে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো হলো- কুড়িল-রামপুরা-সায়েদাবাদ, গাবতলী-আসাদগেট-আজিমপুর ও সায়েন্সল্যাব-শাহবাগ।





error: Content is protected !!