ধর্ম নিয়ে দেওবন্দের ইমামের বক্তব্যের জবাবে কি বললেন নুসরাত?

ধর্ম নিয়ে দেওবন্দের ইমামের বক্তব্যের জবাবে কি বললেন নুসরাত?

টালিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। গত কয়েক মাস ধরে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। তা অবশ্য সিনেমায় অভিনয় দিয়ে নয়, ভারতের রাজনীতির মাঠ সরগরম করে আলোচিত ছিলেন নুসরাত।তবে এসব ছাপিয়ে এখন বেশ সমালোচিত এই ভারতীয় সংসদ সদস্য। কারণ এখন তার নাম নুসরাত জাহান রুহি জৈন, যা মোটেই মানতে পারছে না দেশটির দেওবন্দের ইসলামী সংগঠন ‘দারুল উলুম’।

গত ২২ জুন তুরস্কের বোদরুম শহরে জৈন ধর্মের অনুসারী নিখিল জৈনকে বিয়ে করেন নুসরাত। ২৩ জুন কলকাতায় ফিরেই দুদিন পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।সংসদে তাকে হিন্দু ধর্মীয় মতে সিঁদুর দিতে ও মঙ্গলসূত্র পরতে দেখা গেছে। আর মুসলিম নারী হয়ে এসব করায় ইতিমধ্যে ফতোয়া জারি করেছেন দেওবন্দের ‘দারুল উলুম’-এর ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমি।

নুসরাতের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি- তিনি (নুসরাত) জৈন সম্প্রদায়ের একজনকে বিয়ে করেছেন। ইসলাম বলে, একজন মুসলমান শুধু মুসলমানকেই বিয়ে করতে পারেন। নুসরাতের এমন কাজ ইসলামে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, ‘নুসরাত একজন অভিনেত্রী। আর বরাবরই দেখে এসেছি- অভিনেত্রীরা ধর্মের অনুশাসন মানেন না, যা ইচ্ছা তা-ই করে বেড়ান। সেটিই তিনি সংসদে করে দেখালেন। মুসলিম নারী হয়ে তিনি সংসদে সিঁদুর এবং মঙ্গলসূত্র পরে এসেছিলেন।’

দেওবন্দ ইমামের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে হিন্দু কট্টরবাদীরা। এদিকে ধর্মীয় বিষয়ে নিজেকে এভাবে জড়িয়ে যেতে দেখে নিজের অভিমত জানান নুসরাত। এমন বিতর্ককে রীতিমতো খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক স্ট্যাটাসে নুসরাত বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী যে, কোনো ধর্মের কট্টরপন্থীদের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিলে বা প্রতিক্রিয়া জানালে সেটি শুধু ঘৃণা ও হিংসাই ছড়ায়।’

নিজেকে এখনও একজন মুসলমান দাবি করেন নুসরাত। পোশাক-সাজসজ্জাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরে স্থান দেন তিনি।ধর্ম বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থান জানাতে টুইটারে নুসরাত লেখেন- ‘সব ধর্মকেই আমি শ্রদ্ধা করি। আমি একজন মুসলমান। কিন্তু যে ভারত জাতপাত-ধর্মের সমস্ত বাধার ঊর্ধ্বে, আমি এখন সে ভারতের প্রতিনিধি।’কী পরবেন আর না পরবেন তা নিয়ে কারও মন্তব্য করা উচিত নয় বলে জানান নুসরাত। নুসরাতের মতে, বিশ্বাসের মানে সব ধর্মের অমূল্য শিক্ষাগুলোকে মনে গ্রহণ করা ও তা পালন করা।