ঈদের ছুটিতে দেখে আসুন সাগরকন্যার রূপ

ঈদের ছুটিতে দেখে আসুন সাগরকন্যার রূপ

একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত অথবা সাগরের ঢেউয়ের গর্জনের সঙ্গে বালুতটে লাল কাঁকড়ার নৃত্য দেখতে হলে যেতে হবে সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। সামনে ঈদের লম্বা ছুটির এক ফাঁকে তাই যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন কেওড়া, ছৈলা, বাবলা, নারিকেল গাছে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত।

ভ্রমণপিপাসুরা এরই মধ্যে ঈদের পরের দিন থেকে কুয়াকাটার বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে রুমের জন্য অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরিফ বলেন, ঈদের ছুটিতে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের বরণ করে নিতে সব ধরনেল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

রমজান মাসে কুয়াকাটায় তেমনভাবে কোনো পর্যটকের দেখা না মিললেও ঈদের পরের দিন থেকে এই পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সৈকত এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা।

পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ৭২ কিলোমিটার দক্ষিণে কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত লতাচাপালী ইউনিয়নে অসাধারণ ভ্রমণস্বর্গ খ্যাত সমুদ্রসৈকতটির অবস্থান। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্বদিকেই রয়েছে গঙ্গামতি বা গজমতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও আগুনমুখা নদীর মোহনা, পশ্চিমে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও আন্ধারমানিক নদের মোহনা, উত্তরে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের বাণিজ্যকেন্দ্র আলীপুর।

কুয়াকাটায় বেড়াতে গেলে যেগুলো না দেখলেই নয়, তারমধ্যে রয়েছে, সৈকতের পূর্বপ্রান্তের চারগঙ্গামতী থেকে লাল কাঁকড়া ও সূর্যোদয় দেখা, পশ্চিমপ্রান্তের লেম্বুরচর থেকে সূর্যাস্ত দেখা। ঘুরে দেখা যাবে নারিকেল বীথি, ফয়েজ মিয়ার বাগান, ইকোপার্কসহ কয়েকটি স্থান।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ে ফাতরা, লালদিয়া, হরিণবাড়িয়া, সোনাকাটা ইকোপার্কসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলও ঘুরে দেখা যায় এখান থেকে।

কুয়াকাটায় বিভিন্ন স্থানে দেখা যাবে রাখাইনদের ছোট ছোট পল্লিতে থাকা তাঁতশিল্প ও রাখাইন নারীদের সংগ্রামী জীবন। দেখা যাবে শুঁটকি ও জেলেপল্লির কর্মব্যস্ত জীবন।

ইঞ্জিনচালিত বোটে করে ঘোরে যায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও। ছবি: বাংলানিউজ
বেড়িবাঁধ ঘেঁষে কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়াটির সামনেই রয়েছে সীমা বৌদ্ধমন্দির। প্রাচীন এই মন্দিরে রয়েছে প্রায় সাঁইত্রিশ মণ ওজনের ধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি। পাশাপাশি কুয়াকাটার রাখাইন আদিবাসীদের আরেকটি বাসস্থল মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে একটি বৌদ্ধমন্দির। সেখান থেকে কিছু দূরে আমখোলা পাড়ায় রয়েছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাখাইন বসতি।

কুয়াকাটা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে আলীপুর-মহিপুরে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মাছ বিক্রয়কেন্দ্র। যেখান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরে যায় মাছ ধরতে। এসব জায়গায় ঘুরতে হলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল কিংবা ব্যাটারিচালিত ভ্যানে চরে ঘুরতে পারেন যে কেউ।

কুয়াকটায় সমুদ্রস্নানের জন্য রয়েছে বয়া, লাইফজ্যাকেটসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা। কেনাকাটা করতে চাইলে সৈকতপারের মার্কেট, রাখাইন নারী মার্কেটসহ বেশ কিছু দোকান রয়েছে কুয়াকাটায়।

নিয়মিত খাবারের জন্য বেশ কিছু হোটেল, রেস্টুরেন্ট থাকলেও তাজা সামুদ্রিক মাছ ও কাঁকড়া ভেজে কিংবা বারবিকিউ করে খেতে চাইলে সৈকত সংলগ্ন অস্থায়ী মার্কেটে রয়েছে তার ব্যবস্থা।

নদী ও সড়ক দু’পথেই কুয়াকাটা যাওয়া যায়। তবে প্লেনে করে বরিশাল হয়েও কুয়াকাটা যাওয়া যাবে। ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বরিশাল ও পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চযোগে পটুয়াখালী নেমে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়া যায়।

এছাড়া লঞ্চযোগে কিংবা প্লেনে করে বরিশাল নেমে নগরের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে কুয়াকাটায় যাওয়া যাবে। আর সড়কপথে ঢাকা থেকে সরাসরি যেতে চাইলে ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি বাসে যাওয়া যাবে। সাদামাটা ছাড়াও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসও এই পথে চলাচল করে।





error: Content is protected !!