গর্ভবতী হলেন পুরুষ!

গর্ভবতী হলেন পুরুষ!

কথাটি পড়ে অনেকেই হয়তো অবাক হয়েছেন। কিন্তু এমনই এক ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। তবে ঐ লোকটি পুরোপুরি পুরুষ না হলেও তিনি

ছিলেন একজন ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী পুরুষ।বুধবার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাজির হন হাসপাতালে। তবে নার্স এ বিষয়টিকে জরুরী

বিষয় বলে মনেই করলেন না। তিনি একে স্থূলতাজনিত সমস্যা ভেবে তাকে উচ্চ রক্তপাতের ওষুধ দিয়ে ব্যথা দমন করে দিলেন। কিন্তু তিনি

ছিলেন গর্ভবতী।জানা গেছে, রোগীটির বয়স ছিল ৩২ বছর। তিনি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়ে নার্সকে জানান, তিনি একজন

ট্রান্সজেন্ডার। তবে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ডে তাকে একজন পুরুষ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বহু বছর ধরে তার কোনো ‘পিরিয়ড’

ছিল না এবং তিনি টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করেছিলেন। টেস্টোস্টেরন এমন এক ধরনের হরমোন যা ‘মাসকুলাইনিং’ (পুং-লিঙ্গ) প্রভাব ফেলেছে।ওই

হরমোনের কারণে ডিম্বাশয় গঠন ও মাসিক (মিনেষ্ট্রেশন) কমে যেতে পারে। কিন্তু তিনি এক পর্যায়ে হরমোন ও রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ করা বন্ধ

করে দেন।ওই লোক বাড়িতে প্রেগনেন্সি টেস্ট (গর্ভাবস্থা পরীক্ষা) করেছিলেন যা ‘পজিটিভ’ ছিল। একজন নার্স তাকে প্রেগনেন্সি টেস্ট করাতে

বলেছিলেন। এই নার্সটি তার অবস্থাকে স্থিতিশীল এবং এ সমস্যাকে জরুরী নয় বলে বিবেচনা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরে একজন ডাক্তার

বিষয়টি আমলে নিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করেন। এই টেস্টের মাধ্যমে তার প্রেগনেন্সি (গর্ভাবস্থা) নিশ্চিত করা হয়।তার একটি আল্ট্রাসাউন্ড

পরীক্ষা করা হয় যেখানে ভ্রূণের হার্টের অস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। এরপর ডাক্তাররা জরুরী সিজারিয়ান ডেলিভারি করতে প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু

অপারেশনের রুমে নেওয়ার পর ভ্রূণে হার্টবিট শুনা যায়নি।নিবন্ধের লেখক বলছেন, একজন নারীর ক্ষেত্রেও একই রকম উপসর্গ দেখা যায়।এদিকে, বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।