নারীবাদীরা যাই বলুক; মেয়েদের ঘরের বাইরে খেলতে দিব না : আফ্রিদি

নারীবাদীরা যাই বলুক; মেয়েদের ঘরের বাইরে খেলতে দিব না : আফ্রিদি

খেলোয়াড়ী জীবনে বিতর্ক যার পিছু ছাড়েনি, খেলা ছাড়ার পর তিনি কেন বিতর্কের বাইরে থাকবেন? পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি এই মুহূর্তে বিতর্কে আছেন তার আত্মজীবনী ‘গেম চেঞ্জার’ এর কারণে। নিজের আসল বয়স ফাঁস, ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে বোমা ফাটানো, ভারতের গৌতম গম্ভীরকে তীব্র আক্রমণ, মেয়ে ভেবে ছেলের সঙ্গে প্রেম- সব আলোচনার সব রসদই মজুদ রয়েছে তার এই বইয়ে। তিনি নিজের পারিবারিক জীবন নিয়েও লিখেছেন। আফ্রিদি জানিয়েছেন, তার চার মেয়েকে ভবিষ্যতে কী বানাতে চান।

মেয়ে ভেবে এক ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করেছেন আফ্রিদি। আসল ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি মুষড়ে পড়েন এবং দ্রুত বিয়ে করে ফেলেন। একে একে তাদের ঘরে আসে চার কন্যা সন্তান- আকসা, আসমারা, আনশা এবং আজওয়া। তার বই থেকে জানা গেছে, তিনি তাঁর চার মেয়েকে খেলোয়াড় বানাতে চান। তবে ক্রিকেটার বানানোর ব্যাপারে একেবারেই আগ্রহী নন। শুধু ক্রিকেট নয়; বাইরে গিয়ে খেলতে হয় এমন কোনো খেলাতেই তার মেয়েদের তিনি দিতে চান না। তাহলে কী চান আফ্রিদি?

আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, ‘গত কয়েক বছরে চার মেয়ের বাবা হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। সত্যি বলতে কী, একেকজনের জন্মের পর আমার ভাগ্যের চাকা আরও বেশি করে ঘুরেছে। বাবার কাছে মেয়েরা আশীর্বাদ। আমার কাছে ওদের সবাই আশীর্বাদের মতো। আকসা এখন ক্লাস টেনে পড়ছে। আনশা পড়ছে ক্লাস নাইনে। খেলাধুলায় তারা বেশ ভালো। লেখাপড়ায় আরও ভালো। লেখাপড়া শেষ করার পর আনশা শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশনে কাজ করতে চায়। আজওয়া আর আসমারা সবচেয়ে ছোট। তারা যেমন খুশি তেমন সাজো খেলে সময় কাটায়।’

মেয়েদের খেলোয়াড় বানানোর বিষয়ে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘আমি চাইব না তারা আমার মতো ক্রিকেট খেলাকে তারা পেশা হিসেবে গ্রহণ করুক। শুধু ক্রিকেট নয়, যেসব খেলা ঘরের বাইরে গিয়ে খেলতে হয়, আমি চাই না আমার মেয়েরা সেসব খেলা খেলুক। তবে যে কোনো ইনডোর গেমসে তারা চাইলে ক্যারিয়ার গড়তে পারে। কিন্তু ঘরের বাইরে নয়। ওদের মায়ের সঙ্গেও আমি এ নিয়ে কথা বলেছি। সেও আমার সঙ্গে একমত। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের কথা বিবেচনায় রেখেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নারীবাদীরা আমাকে যা খুশি বলতে পারেন, আমার তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি।’

যেখানে সারাবিশ্বে মেয়েরা ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসছে; চ্যালেঞ্জিং সব পেশায় কাজ করছে, ক্রিকেট-ফুটবলসহ প্রায় সব খেলা খেলছে; সেখানে আফ্রিদির এই মানসিকতা সেকেলে। ক্রিকেটাঙ্গনকে উস্কে দিয়ে ‘গেম চেঞ্জার’ এখন নারী অঙ্গনেও ঝড় তুলতে যাচ্ছে।