বিয়াম স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে

বিয়াম স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে

নাটোরের সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করা যৌন হয়রানি ও ভোগান্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে সত্যতা মিলেছে।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ৩ সদস্যের স্বাক্ষরিত ২ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদনে এই সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা, ক্লাস টেস্টে ভিডিও করা, বাজে আচরণ করা, গায়ে হাত দেয়া ও যৌন হয়রানি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল নাটোরের সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, ভোগান্তি, হুমকি প্রদানসহ মোট ১২টি অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন ওই প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং ১১ জন অভিভাবক। অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানকে দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি কঠোর শাস্তির দাবিও করেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়, সিংড়ার বিয়াম স্কুলের গণিত বিভাগের শিক্ষক ফজলুর রহমান তার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের রাতে ফোন করে কুপ্রস্তাব দেন। আর তার কুপ্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেশি নম্বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। এছাড়া প্রাইভেট পড়ানো অবস্থায় একাধিক শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেওয়াসহ যৌন হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

এর প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিপুল কুমার কে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবুরুশত মতিন ও তথ্য- যোগাযোগ প্রযুক্তির সহকারী প্রোগ্রামার মো. শফিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।