এই গ্রামে ব্রিজ নেই, মরদেহ যাচ্ছে ভেলায়!

এই গ্রামে ব্রিজ নেই, মরদেহ যাচ্ছে ভেলায়!

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। ছোট্ট একটি ব্রিজ না থাকায় দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই এলাকায় যারাই মারা গেছেন, সবার মৃতদেহ এভাবেই ভেলায় করে নিতে হয়েছে।

সর্বশেষ ওই এলাকার আব্দুল বারির ছেলে মনির আহম্মদের মৃত্যুর পর ভেলায় করে মরদেহ দাফনের জন্য নেওয়ার ছবি এখন আলোচিত হচ্ছে।

ছবিটি দেখার পর অনেকেই বলছেন, বর্তমানে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রাস্তাঘাট, পুল-কালভাট, স্কুল মাদ্রাসার উন্নয়ন হলেও উন্নয়নের যেন ছোয়া লাগেনি কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার বৃহত্তর মনিরঝিলের সোনাইছড়ির এই গ্রাম।

এই গ্রামের কবরস্থানে যেতে একটি কালভার্টের অভাব দীর্ঘদিনের। গ্রামে কোনো মানুষ মারা গেলে মৃতদেহ কবরস্থানে দাফনের জন্য কিভাবে ওই গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়-সেটা এই ছবিই প্রমাণ করে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে একটি সেতুর অভাব দীর্ঘদিনের। সোনাইছড়ি খালের একপাড়ে জনবসতি, খালের অপর পাড়ে কবরস্থান। গ্রামে

কোন মানুষ মারা গেলে মৃতদেহ কবরস্থানে দাফনের জন্য কিভাবে ঐ গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়-সেটা ওপরের ছবিই প্রমাণ করে। যে ছবি দেখলে হয়ত চোখের পানি হয়ত সংবরণ করা যাবেনা।

তিতার পাড়ার ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর জানিয়েছেন, ওই লাশ পারাপারের ছবিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুধু লাশ দাফন নয়, স্থানীয় লোকজনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা পিআইও অফিসসহ যারা পল্লী এলাকায়

গ্রামীণ অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে থাকেন নিঃসন্দেহে এখানে তাদের দায়িত্ববোধ রয়েছে বলে জানান এলাকার সচেতন মহল।

রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, এই গ্রামে মানুষের জন্য একটি ছোট ব্রিজ বা কালভার্ট করে দিলে জনদুর্ভোগ আর হবে না।

এই ব্যাপারে রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম জানান, তিনি খোজঁ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।





error: Content is protected !!