নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার লাকসামে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফয়েজ উল্যাহ (৫০) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ১০ দিন পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার (৯ জানুয়ারি) রাতে মারা যান তিনি।

ফয়েজ উল্যাহ বাকই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের কৈত্রা গ্রামের মো. আবদুর রব বেপারীর ছেলে ও একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কৈত্রা ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফয়েজ উল্লাহর মৃত্যুতে আগামী শনিবার লাকসামে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলামের নাগরিক সংবর্ধনা স্থগিত করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলার বাকই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের কৈত্রা সরকারি

প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অদূরে বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র কর্মীরা ভোটারদের আসতে বাধা দেন। এ সময় ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের

সহ-সভাপতি মো. ফয়েজ উল্যাহ (৪৫) এবং তাঁর ছেলে মুদাফরগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান ফয়সাল

(২০) প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা তাঁদেরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে প্রথমে তাঁদেরকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার

অবনতি হলে মো. ফয়েজ উল্যাহকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বুধবার রাত ৯টার দিকে মারা যান তিনি।

এই ঘটনায় নিহত ওই নেতার ছেলে মো. আতিকুর রহমান ফয়সাল বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন বিএনপি নেতা অশ্বদিয়া গ্রামের মৃত নছর উদ্দিনের ছেলে আবদুর রব ওরফে রব মাস্টার (৫৫), একই গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে অহিদুর রহমান (৪৮) এবং মনোহর আলীর ছেলে ইমান হোসেন (৪২)।

দলের ত্যাগী এই নেতার মৃত্যুতে নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্য স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইউনূস ভূঁইয়া, পৌর মেয়র অধ্যাপক মো. আবুল খায়ের, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মহব্বত আলীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ গভীর শোক জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোজ কুমার দে বলেন, নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে আহত করার

অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ পর্যন্ত ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।