কানাডার আদালত বিএনপিকে একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা

কানাডার আদালত বিএনপিকে একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা

গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খামোশ বললেই মানুষের মুখ খামোশ হবে না। জনগণ চুপ হবে না। লজ্জা কম বলেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তারা খামোশ বলতে পারে।’

শুক্রবার বিকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আ’লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন তাতে যুদ্ধাপরাধীদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ছিল না। আজ আমরা দেখি, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত তাদের পরিবারের সদস্যদের বিএনপিসহ যে ঐক্য করা হয়েছে তাতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- যারা এত বড় অপরাধ করল, যে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমরা পরাজিত করলাম, তাদের এই দোসরদের যখন ধানের শীষে মনোনয়ন দেয়া হল, তারা কীভাবে এই নির্বাচন করবে? এ প্রশ্নের উত্তর তারা জাতির কাছে দিতে পারবে?

তিনি বলেন, কোথায় গেল সেই বিবেক? রাজনীতিকে কোথায় নামিয়েছে? তারা যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যে কি ঘটবে? যাদের অপরাধ প্রমাণিত, তাদের সঙ্গে ড. কামাল, সুলতান, মান্না, কাদের সিদ্দিকী কীভাবে হাত মেলাল? সেটাই আমার প্রশ্ন।

তিনি বলেন, আমেরিকার কংগ্রেস থেকে একটি তালিকা পাঠিয়েছে সেখানেও জঙ্গিবাদী হিসেবে এদের নাম রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কানাডার আদালত বিএনপিকে একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধী ছাড়া বিএনপিতে ভালো কোনো যোগ্য লোক নেই? নাকি অপরাধ করলেই বিএনপিতে যোগ্য হয়ে যায়? তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন তাতে যুদ্ধাপরাধীদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ছিল না। অথচ যুদ্ধাপরাধী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীর স্বজনসহ বাংলা ভাই ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ওয়াদা ছিল জাতির কাছে ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। সে অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল করে ’৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করি এবং অনেকের বিচারের রায় ও কার্যকর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে বলব- অপরাধীদের ভোট দেবেন না, এই অপরাধীরা বাংলাদেশে যেন আর কখনও নির্বাচনে প্রতিনিধি হয়ে আসতে না পারে। যেসব এলাকায় তারা দাঁড়িয়েছে (নির্বাচনে) তাদেরকে চিহ্নিত করুন এবং তাদেরকে একেবারে বয়কট করুন।’ এরা ক্ষমতায় এলে এ দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, এ দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হবে, এ দেশের ভাগ্য গড়ার জন্য আজ যে অর্থনৈতিক উন্নয়নটা হচ্ছে সেটাও থেমে যাবে। এসব প্রার্থীকে ভোট না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুর দিকে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছিল। আইয়ুব খানের আমল থেকেই দেখা মিলিটারি ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য একটি দল গঠন করে এবং প্রহসনের নির্বাচন করে। বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানও তাই করেছিল।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

অন্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে ডা. নুজহাত চৌধুরী ও শমী কায়সার বক্তব্য দেন।