চাইল ১৫০, পেল ৩টি

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতার একজন তিনি। বিএনপির আমলেই রাষ্ট্রপতি হন। আবার বিএনপির আমলেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি মিলল। সেই যে নাটকের শুরু, তা যেন থামছেই না। বাবা-ছেলে মিলে নাটক মঞ্চস্থ করছেন এখনও। ঐক্যফ্রন্টে আসন চাইল ১৫০টি অথচ মহাজোট থেকে মিলল মাত্র ৩টি।

অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী বিএনপি ছেড়ে নতুন দল বিকল্পধারা গঠন করছিলেন। নতুন দলে ভেড়েন বিএনপির আরেক নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান। নয়া দল গঠন করলেও মাঠের হিসাবে কখনই সুবিধা করে উঠতে পারেননি তারা। বরং বেরিয়ে আসা বিএনপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজনীতির হাওয়া গায়ে লাগানোর চেষ্টা করেছেন গত এক যুগে। বিকল্পধারাও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপির ‘প্রেসক্রিপশন’ থেকেই।

অথচ সেই বিকল্পধারাই একেবারে ডিগবাজি। মহাজোট সরকারের সমালোচনা করা বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর মাহী বি. চৌধুরী এখন মহাজোট শিবিরেই ঠাঁই নিলো। নির্বাচনী বৈতরণী পার হবেন আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়েই।

যে বিকল্পধারা ঐক্যফ্রন্টের কাছে ১৫০টি আসন চেয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল, সেই বিকল্পধারা এখন মাত্র ৩টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট। তাও আবার কুলা ছেড়ে নৌকায়।

অনেকের মতে, ভারসাম্যের কথা বলে অযথাই নির্বাচনী হাওয়া ঝড়ে রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছিল বিকল্পধারা। কোনো বিবেচনাতেই জোটগতভাবে ১৫০টি আসনে নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে না দলটি। অথচ ১৫০ আসন চেয়ে গো ধরেন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিকল্পধারা। আসন ভাগাভাগির এমন দাবি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের যাত্রাকে ব্যাহত করতে চেয়েছিলেন তারা, এমন অভিযোগ এখনও করছে ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই বিকল্পধারাকে ঐক্যফ্রন্টে ভিড়তে দেয়া হয়নি। বিকল্পধারাকে ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের বাসায় ডাকা হলেও ওইদিন ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় কামাল হোসেনের মতিঝিল চেম্বারে। তাতে সে যাত্রায় শরিক হতে পারেননি বি. চৌধুরীরা।

ধারণা করা হয়, এটিই ছিল বিকল্পধারার জন্য প্রথম হোঁচট, যার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। হোঁচট খেয়ে একেবারে তরী ভিড়ায় আওয়ামী লীগের ঘাটে। কিন্তু এখানেও সুবিধা করে উঠতে পারেননি। শত্রুর শত্রুকে বন্ধু মনে করে বিকল্পধারাকে ঠাঁই দিলেও আওয়ামী লীগ আসন ছাড়তে ঠিক উদাসীনতা দেখায়নি। ৩টিতেই আটকে দেয়া হয়েছে বিকল্পধারার সীমানা।

সূত্র জানায়, মহাজোটে শরিক হয়ে সারাদেশে ৫১টি আসনে মনোনয়নপত্র বিতরণ করে বিকল্পধারা। এর মধ্যে ২৫টি আসন নিয়ে জোর দরকষাকষি চলে। হালে পানি না পেয়ে ১২টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে রাখে নিজেরাই। কিন্তু তাতেও বিধি বাম। ঐক্যফ্রন্টে ১৫০ আসন চেয়ে অবশেষে মহাজোট থেকে মাত্র ৩টি আসনে লড়তে হচ্ছে বিকল্পধারাকে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা হতাশ। মহাজোটের কাছে ১২টি আসন প্রত্যাশা করেছিলাম। এরপর ১০টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সর্বশেষ ৭টি আসন পাবো বলে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু মাত্র ৩টি আসনে লড়বো, এটি অবশ্যই দুঃখজনক।

ঐক্যফ্রন্টে ১৫০ আসন চাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ভারসাম্যের রাজনীতির জন্য ঐক্যফ্রন্টের কাছে ১৫০ আসন চেয়েছিলাম। তখন আমাদের সঙ্গে জেএসডি এবং নাগরিক ঐক্যও ছিল। বিকল্পধারা এককভাবে নয়, মূলত যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে এতগুলো আসন চাওয়া হয়েছিল। ১৫০ আসনে নির্বাচন করার সক্ষমতা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিকল্পধারার এই সক্ষমতা নেই বটে, তবে যুক্তফ্রন্টের ছিল।

উল্লেখ্য, যে তিনটি আসনে বিকল্পধারা বাংলাদেশকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে- মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরী, লক্ষ্মীপুর-৪ থেকে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এবং মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএম শাহীন।