পীরগঞ্জে নৌকার মাঝি কে? শেখ হাসিনা ও শিরীন শারমিনের মনোনয়নপত্র জমা

পীরগঞ্জে নৌকার মাঝি কে? শেখ হাসিনা ও শিরীন শারমিনের মনোনয়নপত্র জমা

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে নৌকার মাঝি হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দুজনই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গতকাল দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার পিএমএ মমিনের কাছে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর এবং পরে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন স্পিকার।

ফলে ভোটার ও নেতাকর্মী-সমর্থকদের প্রশ্ন আসলে কে হচ্ছেন পীরগঞ্জ আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী? অন্যদিকে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

আমাদের রংপুর প্রতিনিধি নজরুল মৃধা ও পীরগঞ্জ প্রতিনিধি কামরুল জুয়েল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার পিএমএ মমিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর পরই তিনি নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ম-ল, মিঠাপুকুরের সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান, পীরগাছা-কাউনিয়া আসনের সংসদ সদস্য টিপু মুন্সি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুল ইসলাম রাঙ্গা, উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামিম, জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পিন্টু প্রমুখ।

এর আগে স্পিকার বড়দরগা মাজার ও ফতেহপুরে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্পিকার বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।

আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তা হলে আমাদের কেউ হারাতে পারবে না।’ তিনি সবার সহযোগিতা চেয়ে আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে, তা অতীতের কোনো সরকারের আমলে হয়নি। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। নিজেদের বিভেদ ভুলে দলের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

একই আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিনের মনোনয়নপত্র দাখিল প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বলেন, ‘আমরা আশা করছি এ আসনে প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্বাচন করবেন। স্পিকারের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হতে পারে। তার পরও দলের সভাপতি হিসেবে তিনি (শেখ হাসিনা) যে নির্দেশ দেবেন আমরা তাই পালন করব।’

এদিকে গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি সৈয়দ মুরাদুল ইসলাম জানান, কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ নেতারা। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারের কাছে তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান নির্বাচনী প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের

ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ কবির হোসেন, চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নাকিব হাসান তরফদারের কাছে মনোনয়নপত্রের একটি অনুলিপি জমা দেন।

এ ছাড়া কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এসএম মাহফুজুর রহমানের হাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়নপত্রের অনুলিপি তুলে দেন।