সাজেকে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৫ দিনে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত সাজেকের অরুণপাড়ায় হাম রোগে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) আরও এক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতের পর এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬ জনে দাঁড়াল। এখনো সাজেকের তিনটি গ্রাম অরুণপাড়া, নিউথাং পাড়া এবং হাইচপাড়ায় আরও শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে দু’টি মেডিকেল টিম সেখানে কাজ করার মধ্যেই আরও এক শিশুর মৃত্যু হলো। সোমবার আরও একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে তিন গ্রামের আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য। এ পর্যন্ত ৬ শিশুর মৃতুর ঘটনায় আশপাশের গ্রামের মানুষেরা ছোট সন্তানদের নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আহমদ জানিয়েছেন, সাজেকের সীমান্তবর্তী দুর্গম গ্রামে হাম রোগে ৫ শিশু গুরুতর আক্রান্ত ছিল, তার মধ্যে দুই শিশুকে স্থানীয়রা খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। তবে সাজেকে আরও তিন শিশুকে চিকিৎসা দিচ্ছিল আমাদের মেডিকেল টিম। তাদের মধ্যে সোমবার সকালে এক শিশু মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। এই নিয়ে সাজেকে ৬ শিশুর মৃত্যু হলো।

তিনি আরও জানান, দুজন মেডিকেল অফিসার, দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ আরেকটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা আজ দুপুরে রওয়ানা দেবে। অন্যদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে হেলির ব্যবস্থা করা হলে আরও মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি। এ উপজেলার সবচেয়ে বড় ও দুর্গম ইউনিয়ন সাজেক। এ ইউনিয়নে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া বাকি এলাকাগুলো অত্যন্ত দুর্গম। সেখানকার শিয়ালদহ এলাকাটিকে সবচেয়ে বেশি দুর্গম বলে বিবেচনা করা হয়। প্রায়শই সেখানে দুর্গমতার কারণে খাদ্যাভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালের মে মাসে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই এলাকায় ৭ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত আরও ৩০ জন জরুরি চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেন। ৬০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সাজেক ইউনিয়নে লোকসংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। কিন্তু যোগাযোগ দুর্গমতা ও সীমান্তবর্তী অনতিক্রম্য এলাকা হওয়ায় সরকারি জরুরি চিকিৎসা সেবা সেখানে নিয়মিত পৌঁছায় না।

 

নিউজ সোর্স: সময় টিভি

Comments are closed.