বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স ইউক্রেনে পাঠাতে রাজি ইরান

বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স ইউক্রেনে পাঠাতে রাজি ইরান

ভুলবশত বিধ্বস্ত করা বিমানের ব্ল্যাকবক্স ইউক্রেনে পাঠাতে রাজি হয়েছে ইরান।

এক বিবৃতিতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং আরো অনুসন্ধানের স্বার্থে ইরান বিমানটির ব্ল্যাকবক্সের রেকর্ডার ইউক্রেনকে পাঠাবে ।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের প্রধান হাসান রেজাইফার এক বিবৃতির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাক-বক্সের রেকর্ড উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

হাসান রেজাইফা বলেছেন, যদি বিমানটির ব্ল্যাক-বক্সের রেকর্ড উদ্ধার করা সম্ভব না হয় তবে আমরা এটি ফ্রান্সে পাঠাব। সেখানে এর তথ্য উদ্ধারে চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি ভুলবশত ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে তেহরান। কিয়েভগামী ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের ৭৩৭-৮০০-তে ১৭৬ যাত্রী ছিল।

যেখানে ইরানের ৮২ জন, কানাডার ৫৭, ইউক্রেনের ১১, সুইডেনের ১০, আফগানিস্তানের চারজন এবং যুক্তরাজ্যের তিনজন নিহত হন।

সেই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ইরানের ওপর আর্ন্তজাতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। সেই তদন্তে সাহায্যার্থে ইউক্রেনকে ওই বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক-বক্স পাঠাবে বলে রাজি হলো ইরান।

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তেহরানে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভ থামাতে গত বুধবার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানে মতানৈক্যের বিরল দৃষ্টান্তের মধ্যেই কীভাবে বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রুহানি।

প্রসঙ্গত গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানি জেনারেল ও কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি।

তাকে হত্যার দায় স্বীকার করে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিবৃতি দেন, ঈশ্বর আমাদের পাশে রয়েছেন।

এর পরই জেনারেল সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এর কয়েক ঘণ্টার পরই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটিকে ভুলবশত ভূপাতিত করেন ইরানের সেনারা।

ওই দুর্ঘটনার তিন দিন পর দায় স্বীকার করে স্বচ্ছভাবে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য বিশ্লেষণের প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান।