News Headline :
করোনা সচেতনতা তৈরিতে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করলো নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা জারি করোনায় মৃত ব্যক্তির জানাজা-দাফন নিয়ে ইফা’র নির্দেশনা ‘চিকিৎসকদের সুরক্ষা না দিলে কারও শেষ রক্ষা হবে না’ করোনাভাইরাস: মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশে সেনা মোতায়েন, চৌঠা এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি, অফিস বন্ধ ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দিবেন প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস: দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করোনা পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া স্থগিত
নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে প্রয়োজন ছিল না: শেখ হাসিনা

নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে প্রয়োজন ছিল না: শেখ হাসিনা

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এটির কোনো প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত সরকার কী উদ্দেশ্যে এ আইন করেছে তা বুঝতে পারছেন না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গালফ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদপত্রটির অনলাইন সংস্করণে গতকাল শনিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও নাগরিক তালিকা এনআরসি নিয়ে যখন ভারতের অভ্যন্তরে তীব্র আন্দোলন চলছে ঠিক তখনই এ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের বিতর্কিত আইনটি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না, কেন এটা করা হল। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।”

ভারত সরকার সম্প্রতি নাগরিকত্ব আইন (সিএএন) সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দুসহ কয়েকটি ধর্মাবলম্বীদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

এই সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হিন্দুসহ এসব ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

তার আগে আসামে নাগরিকপঞ্জি প্রণয়ন করা হয়, যাতে ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যটিতে নাগরিকের তালিকা থেকে বাদ পড়েন বহু মানুষ। আসামের অনেকের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে গিয়ে অনেকে ওই রাজ্যে আবাস গড়েছেন।

নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ও নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে; বিভিন্ন রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় বেকায়কায় রয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।

বাংলাদেশে ১ কোটি ৬০ লাখ হিন্দু (মোট জনসংখ্যার ১০.৭ শতাংশ) থাকার তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেন।

নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর ভারত থেকেও বাংলাদেশে কেউ আসছে না জানালেও তিনি বলেন, “তবে ভারতের মধ্যেই মানুষকে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।”

এনিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এটাই বলে আসছে যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কিংবা নাগরিকপঞ্জি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত সরকারও বলে আসছে। গত বছরের অক্টোবরে আমার নয়া দিল্লি সফরের সময়ও নরেন্দ্র মোদী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ মাত্রায় আছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটা নানা ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের শুরু মিয়ানমারে। তাদের কাছেই এর সমাধান রয়েছে।

কিন্তু মিয়ানমার এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এখন পর্যন্ত দু’বার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে চায়নি। ফলে বাংলাদেশের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমার আসলে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে।

মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে, আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।