ভাসুরের ধর্ষণচেষ্টায় ঘর ছেড়েছেন সেই টিকটক তারকা গৃহবধূ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- একসময় তিনি ছিলেন আটপৌঢ়ে গৃহবধূ। সংসার চলত কেবল স্বামীর রোজগারে। কিন্তু হঠাতই তিনি সন্ধান পেলেন টিকটকের। সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ট্রেন্ডের দৌলতেই পালটে গেল তাঁর জীবন।

হুগলির চুঁচুড়ার ভগবতীডাঙার জেসমিন তারপর থেকেই হয়ে উঠলেন টিকটকার। তাঁর সেই ভিডিও’র দৌলতেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন। নিজের উপার্জনে পালটে ফেলছিলেন সংসারের হালহকিকত।

তারপর দিল্লির এক ফ্যাশন শোয়ে যোগ দিতে গিয়েই ‘নিখোঁজ’ হয়েছিলেন তিনি। পুলিশের দ্বারস্থ হতেই অবশ্য বেরিয়ে এল আসল সত্য। আগেই জানিয়েছিলেন স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি। আর এবার ভাসুরের বিরুদ্ধে তুললেন ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, বছর কয়েক আগে চুঁচুড়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় জেসমিনের। সংসারে অভাব না থাকলেও স্বচ্ছলতা দারুণ কিছু ছিল না। স্বামীর আয়ে সংসার চলত ঠিকই, কিন্তু প্রতিমা চাইছিলেন নিজেও একটা কিছু করতে। এমন সময়ই তাঁর নজরে আসে টিকটক। ঠিক করে নেন, এবার তিনিও করবেন ভিডিও।

যেমন ভাবা-তেমন কাজ। দুটি ভালো মোবাইল কেনেন জেসমিন। সেই মোবাইলে শুট করতেন ভিডিও। এমনকী রাজস্থান, পাটনা, দিল্লিতেও গিয়েও শুটিং করেছিলেন তিনি। কখনও সখনও সঙ্গী হয়েছে স্বামী প্রসেনজিতও। কিছুদিনের মধ্যেই ভালোই জনপ্রিয়তা পান প্রতিমা। আসতে থাকে ভালো রকম টাকাও। ফলে সংসারেও এসেছিল স্বচ্ছলতা।

এরই মধ্যে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিমার। দিল্লিতে একটি ফ্যাশন শোয়ে প্রতিমাকে ডাকেন সেই যুবক। তাতে রাজিও হন ওই গৃহবধূ। গত ৩১ ডিসেম্বর দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন গৃহবধূ। স্বামীর সঙ্গে তারপর মোবাইলে কথাও হয় তাঁর। কিন্তু তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই গৃহবধূ। দশদিন তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। বন্ধ ছিল মোবাইল ফোন। দিশেহারা হয়ে শেষমেশ চুঁচুড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন স্বামী প্রসেনজিৎ মণ্ডল।

ঠিক তারপরই ভিডিও কলে তিনি জানান, স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দিল্লি চলে যান। সেখানেই আপাতত ভাল আছেন। এরপর তিনি আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আনলেন জেসমিন।

সেখানে তিনি বলেন, দিনের পর দিন ভাসুর তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাতে মদতও দিয়েছে। অপহরণ নয় নিজের ইচ্ছাতেই দিল্লিতে চলে গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই গৃহবধূ। এমনকী তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সাহায্যও চেয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.