আন্দোলনের মুখে পেছাল ঢাকা সিটি নির্বাচন, ভোটগ্রহণ ১ ফেব্রুয়ারি

সরস্বতী পূজার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঢাকার দুই সিটির ভোটের তারিখ পরিবর্তন করলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার ইসির জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচ কমিশনার কে এম নুরুল হুদা এ তথ্য জানান।

নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচন পেছানো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সেই আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসএসসি পরীক্ষা সূচি পরিবর্তন এনেছে।

এর আগে ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে ইসি। সরস্বতী পূজার কারণে ওই তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এমনকি গত বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনেও বসেন শিক্ষার্থীরা। রাজনৈতিক দল ও ঢাকার দুই সিটির প্রার্থীরাও ভোট পেছানোর দাবি তুলে। ভোট পেছানোর ক্ষেত্রে সরকার বা আওয়ামী লীগের কোনও আপত্তি নেই বলে শুক্রবার জানিয়ে দেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও।

এরই পরিপ্রেক্ষিরেত জরুরি বৈঠকে শনিবার বসে ইসি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় ৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর উত্তরের মেয়র আনিসুক হক মারা গেলে উপ-নির্বাচন হয়েছিল চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। আর ভোটের আয়োজন করতে হয় মেয়াদপূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে। সে অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৬ মে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণও করেছিল ইসি। এ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। কমিশন বলছে, আগামী মার্চে এই সিটি ভোটগ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares