দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ রোগের কারণে বন্ধ করছে গরু রফতানি

দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার পা ও মুখের রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে নতুন বছরের শুরুতেই ইউরোপ আমেরিকা ও মিডেলিষ্টসহ সকল আর্ন্তজাতিক বাজারে গরু রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারেও মেডিকেল ছাড়পত্র ছাড়া গরু বিক্রি,জবাই ও প্রসেসিং গরুর মাংস বিক্রি ও বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় কৃষি, ভূমি সংস্কার ও পল্লী উন্নয়ন ও পশু সম্পদ অধিদফতর।

তারা বলছে, দেশের সকল প্রদেশের ফার্ম মালিকদের উপর পশুসম্পদ বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সর্বপ্রথম লিম্পোপো প্রদেশে গরুর পা ও মুখের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ঐ এলাকায় গরু বিক্রি বন্ধ করা হয়েছিল। এর ফলে সমস্ত গবাদি পশু ফিডলট, পশুর নিলাম এবং নিচ খরচায় বাজার বিক্রয় বন্ধ হয়েছিল।

সরকারিভাবে আক্রান্ত গবাদি পশুদের চিকিৎসা দেয়া হলেও তখন অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বরং এটি আস্তে আস্তে মহামারি রুপে সারাদেশের গবাদিপশুর ওপর ছড়িয়ে পড়ে। তাই সরকার ২০২০ সালের শুরু থেকে গরু বিক্রি বন্ধ রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

অধিদপ্তরের মুখপাত্র, রেজি এনগকোব বলেছেন, লিম্পোপো প্রদেশে ইতিমধ্যে ১৪ টি খামারের ২০ হাজার গরুর মৃত্যু হয়েছে।আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের যথেষ্ট মেডিকেল টিম ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো দেশে। তারপরও এই রোগ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছেনা তাই সাময়িকভাবে গরু রপ্তানি ও বিক্রি ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।

এদিকে, কৃষি, ভূমি সংস্কার ও পল্লী উন্নয়ন ও পশু সম্পদ মন্ত্রী বেশি সংখ্যক খামারে খামার মালিক খুন এবং মজুদ চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র ২০১৯ অর্থ বছরেই ৪৭ জন খামার মালিক খুন হয়েছে যেটা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকার। গত বছরে প্রায় ৩০ হাজার গবাদিপশু চুরি হয়েছে।

বর্তমানে গবাদিপশুর মজুদ চুরি বেড়েছে ২.৯%। গবাদি পশু গরু,ভেড়া, ছাগল এবং ঘোড়া অনুসরণকারী মজুদ চোরদের প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, মজুদ চুরিতে পশুপালের ক্ষয়ক্ষতি কেবল খামার মালিকদের ক্ষতিগ্রস্থ করেছে না বরং সরাসরি তারা পুরো পশুসম্পদ শিল্পকেই ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.