কাশ্মীর নিয়ে কথা বলায় মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের নিষেধাজ্ঞা!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কাশ্মীর ও নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তাঁকে এবার মুখ খোলার খেসারত দিতে হচ্ছে। তাঁর মন্তব্যে রীতিমতো অখুশি মোদী সরকার মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল কেনার ওপর বিধি নিষেধ চালু করল।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ড. মাহাথিরের মন্তব্যের কারণে নয়াদিল্লি মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল কেনার ওপর বিধি-নিষেধ চালু করলো৷

খবরে বলা হয়েছে, মূলত, মালয়েশিয়াকে শিক্ষা দিতেই অশোধিত পাম তেলের আমদানিকে নিয়ন্ত্রিত তালিকায় রাখা হয়েছে৷ এতদিন এই আমদানি ‘ফ্রি’ ছিল৷ তার মানে ভারত এখন শুধু অশোধিত পাম তেল আমদানি করবে, পরিশেোধিত পাম তেল নয়৷

এদিকে, ভারতের এই সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিকভাবে ধাক্কা খাবে মালয়েশিয়া৷ অন্যদিকে, সুবিধা হবে ইন্দোনেশিয়ার৷ কারণ ভারত ইন্দোনেশিয়া থেকে মূলত অপরিশোধিত পাম তেল ও পামোলিন আমদানি করে৷ আর পরিশোধিত পাম তেল আসতো মালয়েশিয়া থেকে৷

ভারতীয় গণমাধ্যম নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিজনেস এডিটর জয়ন্ত রায় চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ”মালয়েশিয়াকে শিক্ষা দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ কিছু দিন থেকেই মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলির সঙ্গে চুক্তির নবীকরণ করা হচ্ছিল না৷ বরং ইন্দোনেশিয়ার সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছিল৷ মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ায় মাহাথির মোহাম্মাদ অসুবিধায় পড়বেন, অথচ ভারতের কিছু হবে না৷ কারণ ভারত তো ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম তেল পেয়েই যাচ্ছে৷”

গত অক্টোবরে মাহাথির বলেছিলেন, কাশ্মীরে হানা দিয়ে তা দখল করে রেখেছে ভারত। গত মাসে তিনি বলেছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের জন্য ভারতে অশান্তি দেখা দিয়েছে। ঘটনা হল, সচরাচর অন্য দেশের রাষ্ট্রনেতারা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সচরাচর মন্তব্য করেন না। এর ব্যতিক্রম নেই তা নয়, তবে নিজের দেশের স্বার্থবিরোধী না হলে অন্য কোনও দেশ সংসদে অনুমোদিত কোনও আইন সম্পর্কে মুখ খোলে না। মাহাথির অবশ্য সে সবের তোয়াক্কা না করে সরাসরি কাশ্মীর ও সিএএ নিয়ে বলেছেন। এতেই প্রবল চটেছে মোদী সরকার। বাণিজ্য বিধিনিষেধ সে জন্যই। জয়ন্ত রায়চৌধুরীর মতে, ‘এটা অন্য দেশের প্রতি একটা বার্তাও।’

ভারতের মতো বাজার, বিশ্বের খুব কম দেশেই আছে। তাই ভারতের বিরোধিতা করার আগে অন্যদেরও দুবার ভাবতে হয়। মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল সবথেকে বেশি পরিমাণে ভারতেই আসত। তাই এই সিদ্ধান্ত আর্থিক দিক থেকে তাঁদের সমস্যায় ফেলবে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares