স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেল মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়-ক্ষতি

দিনের আলোয় তোলা স্যাটেলাইট ইমেজে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে।

বুধবার ইরাকি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, এ দিন ভোরে ইরানের ছোড়া ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করে। এর মধ্যে ১৭টি ছিল আল আসাদ বিমান ঘাঁটিতে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জন অধ্যুষিত এলাকা এড়িয়ে গেছে। কিন্তু ভিন্নমত জানিয়েছেন আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল মার্ক মাইলি। সিএনএন’কে বলেন, আমি যা দেখেছি ও জেনেছি তাতে বিশ্বাস করি তারা অবকাঠামো, যানবাহন, সরঞ্জাম, বিমান ও কর্মীদের মেরে ফেলার উদ্দেশে এই কাজ করেছে। তবে একে ‘ব্যক্তিগত মূল্যায়ন’ বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প বলেছিলেন এই হামলায় কোনো আমেরিকান বা ইরাকি মারা যায়নি। যদিও ইরানের দাবি ৮০ মার্কিন ‘সন্ত্রাসীকে’ খুন করেছে তারা।

এদিকে প্ল্যানেট ল্যাবের তোলা কিছু ছবি প্রকাশ হয়েছে। যেখানে ২৫ ডিসেম্বর ও বুধবার তোলা আল আসাদ ঘাঁটির ছবি ‍তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে কিছু বৈসাদৃশ্য উঠে আসে।

ছবিতে দেখা যায়, ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমান ঘাঁটির হ্যাঙ্গার এবং কিছু ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা ২৫ ডিসেম্বর তোলা ছবিতে নেই।

হামলায় ঘাঁটির অন্তত পাঁচটি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

ক্ষতি পরিমাণ এই সব ছবি থেকে পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে না। আসলেই কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা তাও স্পষ্ট নয়।

তবে এটা ঠিক যে, অবকাঠামোর দিক থেকে ক্ষতি শিকার হয়েছে মার্কিন ঘাঁটিগুলো। এই মত দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরিতে মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেফ্রি লুইস।

গত শুক্রবার ভোরে ইরাকে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানি। তিনি ইরানি সেনাবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন।

ইসরায়েলি হামলা ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে হামাসকে সহায়তা দিত সোলেইমানির কুদস বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন শক্তি ও ইসরায়েলের আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন এই ইরানি জেনারেল। এ ছাড়া সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকারকে সহায়তা ও আইএস নিধনে ভূমিকা রাখেন তিনি।

ওই হামলায় সোলেইমানিসহ নিহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares