ইরান বনাম আমেরিকা, কার কত শক্তি?

ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে মার্কিন বাহিনীর হত্যা এবং ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কার কত সামরিক শক্তি এর একটি তুলনামূলক চিত্র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মার্কিন শক্তি : সাতটি মহাদেশে চার হাজার ৮০০টি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং বছরে ৭০ হাজার কোটি বাজেট বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ৩০ লাখ সদস্যের মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী লড়াকু বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের হাতে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বি-৫২ বোম্বারস, বি-২ স্টেলথ বোম্বারস, বি-১ বোম্বারস, এফ-২২ স্টেলথ ফাইটারস, গাইডেড মিসাল ও অ্যাটাক সাবমেরিন, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারস, ডেস্ট্রয়ারস, ক্রুসারসসহ বিভিন্ন অস্ত্র রয়েছে।

সেনাবাহিনী : মার্কিন সেনাবাহিনীতে সক্রিয় সেনা সদস্যের সংখ্যা ১২ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন। সংরক্ষিত রয়েছে আরো আট লাখ ১১ হাজার জন। ট্যাংক রয়েছে ছয় হাজার ৩৯৩টি।  সাঁজোয়া যানের (আর্মড ফাইটিং ভেহিকল) সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৬০টি। সেনা সদস্যের ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কামান রয়েছে তিন হাজার ২৬৯টি। পাশাপাশি ৯৫০টি সংক্রিয় কামান (সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি) ও এক হাজার ১৯৭টি রকেটচালিত কামান (রকেট আর্টিলারি) রয়েছে।

বিমানবাহিনী : ক্ষমতার দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীতে মোট আকাশযানের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩০৪টি। এর মধ্যে ফাইটার বিমান দুই হাজার ৩৬২টি, অ্যাটাক বিমান দুই হাজার ৮৩১টি, হেলিকপ্টার পাঁচ হাজার ৭৬০টি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে ৯৭১টি। যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সেরা স্টেলথ এফ-২২ ও এফ ৩৬, রয়েছে বি-৫২ বোম্বারস, বি-২ স্টেলথ বোম্বারস, বি-১ বোম্বারস।

নৌবাহিনী : যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে মোট যানের সংখ্যা ৪১৫টি। এর মধ্যে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার রয়েছে ২৪টি, ফ্রিগেট রয়েছে ২২টি, ডেস্ট্রয়ার রয়েছে ৬৮টি, করভেট রয়েছে ১৫টি ও সাবমেরিন রয়েছে ৬৮টি। এ ছাড়া রয়েছে গাইডেড মিসাইল ও অ্যাটাক সাবমেরিন। পেট্রল বোট ১৩টি ও মাইন ওয়্যাফেয়ার রয়েছে ১১টি।

ইরানের সামরিক শক্তি

সেনাবাহিনী :  ইরানের বর্তমান সক্রিয় সেনা পাঁচ লাখ ২৩ হাজার। সংরক্ষিত সদস্য রয়েছে তিন লাখ ৫০ হাজার জন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মতে, কমপক্ষে দেড় লাখ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি সেনা আছে দেশটিতে। দেশটির ট্যাংকের সংখ্যা এক হাজার ৬৩৪টি। সাঁজোয়াযান রয়েছে দুই হাজার ৩৪৫টি। সেনা সদস্যের ব্যবহারের জন্য কামান (টোয়েড আর্টিলারি) রয়েছে দুই হাজার ১২৮টি। পাশাপাশি ৫৭০টি সংক্রিয় কামান (সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি) ও এক হাজার ৯০০টি রকেটচালিত কামান (রকেট আর্টিলারি) রয়েছে। 

বিমানবাহিনী : বিমানবাহিনীর মোট আকাশযানের সংখ্যা ৫০৯টি। এর মধ্যে রয়েছে ফাইটার বিমান ১৪২টি, অ্যাটাক বিমান ১৬৫টি, হেলিকপ্টার ১২৬টি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ১২টি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জন্য ১০৪টি ও পরিবহনের জন্য ৯৮টি উড়োজাহাজ রয়েছে বাহিনীটির।

নৌবাহিনী : ইরানের নৌবাহিনীতে এখন পর্যন্ত যোগ হয়নি কোনো এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। বাহিনীটিতে ফ্রিগেট রয়েছে ছয়টি, করভেট রয়েছে তিনটি এবং সাবমেরিন রয়েছে ৩৪টি। নেই কোনো ডেস্ট্রয়ার। তবে ইরানের ৮৮টি পেট্রল বোট ও তিনটি মাইন ওয়্যাফেয়ার রয়েছে।

পারমাণবিক শক্তি : যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হলেও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক বোমা নেই বলে ধারণা করা হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র : ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মতে, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় বিশেষ করে স্বল্পপাল্লা আর মাঝারি পাল্লার। সূত্র : এএফপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares